১৬ জুলাই ২০২৪ইং। চট্টগ্রামের ষোলশহরের বিপ্লব উদ্যানের সেই বিকালটা আজো চোখে ভাসে। একটা ছোট্ট দায়িত্বই ছিল সেদিন, যেটা একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার পেশাগত অধিকার-স্রেফ ঘটনা নথিবদ্ধ করা। তবে কি জানতাম, রাস্তায় চলমান এই সহিংসতার সত্যি তুলে ধরতে গিয়ে নিজেই সেদিন একটা বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবো?
ঘটনাটা তেমন কিছুই না-একটা ভিডিও ক্লিপ নিয়েছিলাম, যেখানে প্রকাশ্য রাস্তায় এক কিশোর শত্রুপক্ষের দিকে বন্দুক তুলে শ্যুট করতে উদ্যত। অপরাধ? সেটা নাকি ছিলো ছাত্রলীগের নুরুল আজিম রনির “হেলমেট বাহিনী”-র সহ্যসীমার বাইরে। তাদের কাছে সাংবাদিক হিসেবে আমার এই ছোট্ট প্রয়াস ছিলো সহিংসার বিশাল প্রলেপ। আমার পেশাদারিত্ব যেন তাদের কাছে ছিলো “বিদ্রোহ।”
বিপ্লব উদ্যান থেকে ২ নম্বর গেটের দিকে মিছিল এগোচ্ছিলো। সেই মিছিলে আমার বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র—সবাই ছিলো, বেশিরভাগেরই প্রথম আন্দোলন। তারা এক নতুন আশার মশাল নিয়ে এগোচ্ছিলো, নিজেদের অধিকারের জন্য কিছু একটা করতে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, পুলিশের বন্দুকের নল আমাদের দিকে তাক করা, আর ছাত্রলীগের গুন্ডাদেরও বন্দুক ধরা। মনের ভেতর শীতল একটা কাঁপুনি। তবু, ক্যামেরা নামালাম না; দায়িত্বে অবিচল রইলাম। কিন্তু মুহূর্তেই বৃষ্টির মতো পাথর আসতে লাগলো আমার দিকে। ছুটতে লাগলাম, “মিডিয়া ভাই, মিডিয়া” বলে। চারপাশে কোনো আশ্রয় নেই যেন, শুধু ভয় আর বিপদ।
ঠিক সেই মুহূর্তে দেখি, আমার ইউনিভার্সিটিরই একজন—আবিদ। ইংরেজি বিভাগের ৭ম সিমেস্টারে পড়ে সে, চকবাজার থানার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম তৌসিফের গ্রুপে ছিলো। আমার এককালের বন্ধু, আজ চোখে তার শুধু ঘৃণা। মনে হয়, সেই বন্ধুত্বের স্মৃতিগুলো সে ভুলে গেছে। তার চোখে ছিল শত্রুতা, যেন আমি তার অস্তিত্বের বিপদ। সে আমার দিকে এগিয়ে আসলো, লোহার পাইপ হাতে। পাইপ দিয়ে মারেনি, তবে বুক আর পেটে লাথি মারতে লাগলো—শক্ত, নির্মম আঘাত। যেন কোনো সম্পর্ক, কোনো স্মৃতি তাকে থামাতে পারছিলো না।
তার সাথের ছেলেরাও পিছু হটেনি। তারা আমার পিঠে, কোমরে লাথি মেরে শাস্তি দিতে লাগলো। কোমরে পাইপের একটা শক্ত আঘাত, যা আমাকে মুহূর্তে মাটিতে ফেলে দিল। মনে হচ্ছিল, শরীরটা ভেঙে যাচ্ছে, ব্যথায় দম বন্ধ হয়ে আসছে। “আমি সাংবাদিক, প্লিজ আমাকে মাইরেন না”—কাঁপা কণ্ঠে অনুরোধ করেও লাভ হলো না। আবিদ গর্জে উঠলো চট্টগ্রামের ভাষায়, “মার, মেরে ফেল। সে বামের কিছু একটা, সাংবাদিক হইলেও মার।” তার কণ্ঠে এমন নির্মমতা, যেন আমার জীবন কোনো মূল্য রাখে না।
ওরা যখন আমাকে মাটিতে ফেলে দিলো, যেন প্রতিটা আঘাতের মধ্যে সেই তীব্র ঘৃণা ফুটে উঠছিল। একজন আবার এসে বুকের ওপর লাথি মারলো, যেন আমি ওদের চোখে কেবল একটা তুচ্ছ বস্তু, একটা আবর্জনা মাত্র। আমার পেটের ভেতরটা মুচড়ে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল শ্বাস নিতে পারছি না। ওরা একটার পর একটা লাথি মারছে, যেন আমার শ্বাস বন্ধ করাটাই ওদের মনের শান্তি। আবিদের চোখে সেই নির্মম, ঠাণ্ডা নিষ্ঠুরতা দেখে মনে হচ্ছিল, বন্ধু তো দূরের কথা, আমি যেন ওর সামনে একটা শত্রুর ছায়ামাত্র। লোহার পাইপ নিয়ে কোমরে আঘাত করলো, যেন একবারেই হাড় ভেঙে ফেলতে চায়।
ওদের প্রত্যেকটা আঘাত যেন আরও গভীর কষ্টের, তীব্র অপমানের চিহ্ন হয়ে শরীরে গেঁথে যাচ্ছে। আমি মাটিতে পড়ে কুঁকড়ে আছি, আর ওরা প্রত্যেকটা আঘাতের সাথে হিংস্র গর্জন করছে। ওদের মনে এতটুকু দ্বিধা নেই, ওরা যেন আনন্দ পাচ্ছে আমার যন্ত্রণায়। এক ছেলেটা কোমরে আরেকটা লাথি মারলো, এমনভাবে যেন প্রতিটা হাড় ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আমার চোখের সামনেই সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল, কিন্তু ওদের চোখে শুধু উগ্র ঘৃণার ঝলক, যেন আমাকে পিষে ফেলাটাই ওদের পরম তৃপ্তি।
যখন মনে হচ্ছিল শেষ নিঃশ্বাসটা বোধহয় আর নিতে পারবো না, ঠিক তখনই সেই ছেলেটা সামনে এসে দাঁড়ালো। একটা ছোটখাটো শরীর, কিন্তু চোখে অদ্ভুত সাহসের ঝিলিক। ছাত্রসেনার মাহিন। বয়সে ছোট, এমইএস কলেজে পড়ে, তবে দৃঢ়তা যেন ওর মুখে ঠিকরে বেরোচ্ছে। ছেলেটা দু’হাতে থামিয়ে দিল ওদের, একরকম ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো, “ভাই, আপনি চলে যান।” তার চেহারায় সেই নিষ্ঠুরতার বিন্দুমাত্র নেই, বরং একটা মমতা, যেন নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে আমাকে সেখান থেকে বাঁচাতে এসেছে।
ওর কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যা ওদের থমকে যেতে বাধ্য করলো। মাহিন এক মুহূর্তের জন্যও কাঁপেনি, বরং বুক চিতিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো। আমি তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়ালাম, পুরো শরীর ব্যথায় যেন ভেঙে গেছে, কিন্তু মাহিনের সেই সাহসী চেহারাটা আমাকে পথ দেখাচ্ছিল। মনে হলো এই ছোট্ট ছেলেটার সামনে আমার ভয়টা হারিয়ে গেছে। ওর একটুকরো সাহসই যেন আমার বেঁচে থাকার আশ্বাস হয়ে দাঁড়ালো।
সেদিন বেঁচে থাকার সৌভাগ্য যেন অবিশ্বাস্যভাবে মাহিনের মতো একজন ছোট ছেলের হাত ধরে এসেছিল। ছাত্রসেনার সক্রিয় সদস্য, বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট, কিন্তু সাহসে যেন প্রাচীরের মতো। এমইএস কলেজে পড়ে সে, কিন্তু তার চোখে ছিলো এক অন্যরকম দৃঢ়তা, যেন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েও আমাকে রক্ষা করতে চায়। আমাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে পেছন থেকে একরকম টেনে তুলে দাঁড় করালো, গলায় অনুরোধের সুরে বললো, “ভাই, আপনি চলে যান। আপনি পালান। আপনি পিছে ফিরিয়েন না ভাই, ওরা আমার বন্ধু। আমি সরায়ে দিচ্ছি।”
মাহিনের কণ্ঠে ছিলো এমন কিছু, যেন তার নিজ জীবনের চেয়ে আমার নিরাপত্তা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার একটুকরো মমতা যেন আমাকে নতুন করে সাহস জুগিয়ে গেলো। প্রতিটা শব্দে ছিলো আশ্বাস, যেন আমার বেঁচে থাকার আশ্রয়। সেদিনের ভয়াবহতার মধ্যে মাহিনের সেই ছোট্ট কণ্ঠস্বর আমার শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল।
তার ছোট্ট কথাগুলো যেন আমাকে জীবনের এক নতুন উপলব্ধি দিল। আমি চলার মতো কোনো শক্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তবু এগিয়ে চললাম। তবে পালাইনি, আবারও গিয়ে দাঁড়িয়েছি ২নং গেইটে। বড় বড় মিডিয়া হাউজের সাংবাদিকদের দেখলাম, বন্দুক, ককটেল আর ক্যামেরার বাহারে যেনো ঝনঝন করছে পুরো দুই নম্বর গেইট।
মনে পড়ে, শহীদ ওয়াসিম ভাইয়ের কথা। সেই লংমার্চের দিন কাজীর দেউরিতে পরিচয় হয়েছিলো। একটা আলাদা মায়া ছিলো ওর চোখে, যেন প্রতিবাদের কঠিন পথটাও একসাথে পার হওয়া যাবে। ১৬ তারিখের দুপুরে যখন আমাকে দেখেছিল, মুখে হাসি নিয়ে বলেছিলো, “সামী, কর্মসূচি শেষে শাহী পান খাবো, দাঁড়াইস।” একটা ছোট্ট আশ্বাসের সুর, যেন এই দুঃসাহসী পথে সঙ্গী আছে, আমি একা নই। একটা মুহূর্তের ভরসা, যে আমাদের এই সংগ্রামের শেষটা একসাথে শাহী পান দিয়ে উদযাপন করবো। কিন্তু দশ মিনিট পরেই সেই প্রতিজ্ঞার ভাঙা টুকরো এসে আমার কাছে ধাক্কা দিলো—শহীদ ওয়াসিম ভাইয়ের আর কোনোদিনই শাহী পান খাওয়া হবে না।
ওর মৃত্যু যেন আমার সামনে প্রতিটা স্বপ্নকে গুড়িয়ে দিলো। সেই প্রতিজ্ঞার অমোঘ পরিণতিটা আমার হৃদয়ের গভীরে কষ্টের এক শেকড় হয়ে রয়ে গেলো। ওয়াসিম ভাইয়ের মৃত্যুর খবর কানে আসতেই মনে হলো, এই লড়াইয়ে হারিয়ে যাওয়াটাই হয়তো আমাদের নিয়তি। আমাদের সেই একসাথে দাঁড়ানোর, একসাথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞাগুলো যেন হাওয়ায় মিশে গেলো। সেই মমতার মুহূর্তগুলোও যেন হারিয়ে গেলো অস্তিত্বের বাইরে।
এই স্মৃতিগুলো শুধু স্মৃতি নয়। এগুলো আমার জীবনের গভীরতম ক্ষত, এমন কিছু যা প্রতিদিন আমাকে এক ভিন্নতর বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে। শহীদ ওয়াসিমের সেই শেষ কথাগুলো, লোহার পাইপ হাতে সহপাঠীর আঘাত—এগুলো আর কেবল অভিজ্ঞতা নয়, আমার জীবনের প্রতিটা ধূসর দিন, প্রতিটা রাতে বুকের গভীরে মিশে থাকা বেদনার প্রতিচ্ছবি হয়ে রয়ে যাবে। আমাদের প্রতিজ্ঞার শেষ পরিণতি এসে দাঁড়ালো এই নির্মম বিদায়ের প্রান্তে, যেখানে বন্ধুত্বের আশ্বাসগুলো এক অন্ধকারের মাঝে হারিয়ে গেছে। এই স্মৃতিগুলো আমার জীবনের খোঁচা হয়ে থাকবে, আমি যত দিন বাঁচি। প্রত্যেকটা ক্ষত আমার হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধে থাকবে, আমৃত্যু।
একজন সাংবাদিক হিসেবে, আমার কাজ শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রহ বা প্রতিবেদন তৈরি করা নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা, অসত্যকে উন্মোচন করা, এবং গণতন্ত্রের কল্যাণে আওয়াজ তোলা। আমি যেখানেই থাকি, সে হোক রাস্তায়, কলেজ ক্যাম্পাসে, কিংবা কোনো সংঘর্ষের কেন্দ্রে—আমার দায়িত্ব হল ঘটনার সঠিক চিত্র তুলে ধরা। কিন্তু, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা কতটা স্বাধীনভাবে চর্চা করা সম্ভব? বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে থাকে।
১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল এক ভয়াবহ উদাহরণ, যেখানে সাংবাদিক হিসেবে আমার পেশাগত অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। আমি শুধু একটি ভিডিও ক্লিপ তুলছিলাম, যেখানে একটি কিশোর প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক তুলে শত্রুপক্ষের দিকে লক্ষ্য করছিল। এই ছোট্ট দৃশ্যটুকু ছিল, স্রেফ একটি ঘটনার নথিপত্র, কিন্তু তা ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সহ্য করা সম্ভব ছিল না। তাদের কাছে, আমি ছিলাম এক “বিদ্রোহী”, যেহেতু আমি তাদের অপকর্মের সাক্ষী হয়ে উঠেছিলাম।
প্রশ্ন উঠতে পারে, একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতা কি শুধু ঘটনা রিপোর্ট করার জন্য? নাকি, তার নৈতিক দায়িত্বও তাকে সমাজের নির্যাতিতদের পক্ষে দাঁড়ানোর? একটি গণতান্ত্রিক সমাজে, সাংবাদিকতার ভূমিকা হয় জনগণের আস্থার প্রতীক, তাদের দুঃখ-দুর্দশা এবং সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা। কিন্তু যখন সেই স্বাধীনতা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে, তখন কি তার দায়িত্ব শুধু তথ্য প্রদান, নাকি প্রতিবাদে সরব হওয়া?
যখন আমি মাটিতে পড়েছিলাম, এবং আমার প্রতি চড়াও হওয়া ফেরদৌস হাসান আবিদ—যে একসময়ে আমার সহপাঠী ছিল, এখনো আছে—আমার উপর অমানবিক অত্যাচার করছিল, আমি বুঝতে পারলাম, সাংবাদিকদের জীবনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারে। তার চোখে যে ঘৃণা, তা স্রেফ আমাকে নয়, পুরো সাংবাদিকতার শৃঙ্খলাকেও লক্ষ্য করে। কিন্তু সেখানেই এক অদ্ভুত সত্য প্রকাশ পায়: আমাদের মানবিকতা, আমাদের নৈতিকতা, আমাদের প্রতিবাদের ভাষা—এগুলো কোনোভাবেই চাপানো যায় না। মাহিন, যে আমার এক ছোট্ট বন্ধুর মতো, যিনি আমাকে বাঁচাতে এসেছিলেন, সে ছিল একটি আলোকবর্তিকা। তার সাহস, তার মমতা, আমাদের মধ্যে একটি চিরন্তন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল—এটি এক নতুন উপলব্ধি এনে দেয়।
এই ঘটনায় আমি শিখেছি, একজন সাংবাদিক কেবল খবর সংগ্রহকারী নয়, সে এক প্রতিবাদীও হতে পারে। সে প্রতিনিয়ত সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে, গণতন্ত্রের অনুশীলন করে। এই প্রতিবাদী মনোভাব তাকে সন্ত্রাস, অবিচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে নিয়ে যেতে পারে। সমাজে দুর্দশা এবং অবিচারের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র শব্দের অস্ত্রই নয়, সাহসী কর্মের প্রয়োজন হয়।
আমরা যদি মনে করি, সাংবাদিকতা কেবলমাত্র ঘটনার তথ্য প্রাপ্তি এবং পরিবেশন, তবে আমরা ভুল করছি। সাংবাদিকতা হল জনগণের পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এটা শুধুমাত্র পেশা নয়, এক ধরনের জীবনবোধ, যেখানে প্রতিটি প্রতিবাদই হয়ে ওঠে একটা বার্তা। “আমরা একে অন্যের মুক্তির জন্য দাঁড়াই”—এই ভাবনাই সত্যিকারের সাংবাদিকতার মর্ম।
এখন, যদি আমি দেখি যে এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আমাকে বদলে ফেলেছে, তবে এটিই যেন যেন বুঝিয়ে দেয়, সাংবাদিকতা কখনো শুধুমাত্র সংবাদ নয়, বরং মানবিকতা, ন্যায় এবং স্বাধীনতার পক্ষে এক অটুট আন্দোলন।



