১৯ জুলাইয়ের উত্তাল রামপুরা

বাপ্পি রানা হাওলাদার
শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি;
জেনারেল মেম্বার, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফি ক্লাব

সারাদিন যা যা দেখছি তা হয়তো এই অল্প কয়েকটা ছবি দিয়ে কোনোদিনই বুঝানো সম্ভব না। চারপাশে টিয়ারশেলের গন্ধে চোখ মুখ জ্বলে যাচ্ছিলো। কানে শুধু সাউন্ডগ্রেনেডের শব্দ চোখের সামনের মানুষ গুলি খেয়ে পড়ে আছে রাস্তায় ,ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেডিকেল ভর্তি আহত স্টুডেন্ট।আফতাবনগর গেইটের সামনের পুলিশফাঁড়ি থেকে হটাৎ গুলি চালানোয় সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আমার সামনে একটি অততায়ী গুলিতে লুটিয়ে পড়ে রাস্তায় একটি তাজা প্রাণ। পিছনের দুই দিক থেকেও একই সাথে গুলি চলছে। মাথার উপর থেকে হেলিকপ্টার থেকে টিয়ারশেল মারছে, একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ জনতার কাছে পুলিশ হার মেনে নয়। অনেক কষ্টে টিয়ারশেল খেয়ে কপালে নাচা মৃত্যুকে পাশ কাটিয়েই ইউনিভার্সিটির দিকে এগোতেই দেখি সাদা পাঞ্জাবি পরা এক লোক আমাকে হটাৎ বলছে “ভাই ওরা গুলি করে সব শেষ করে দিলো আমার ছেলে পড়ে আছে,আমার ছেলে শহীদ ,আমি শহীদের পিতা লোকটার চোখে মুখে বিস্ময় যেন হয়তো কোনো স্বপ্ন দেখছেন নিজেকে বুজানোর চেষ্টা করছেন যেন ,একটু পর ঘুম ভাঙবে সকাল হবে। কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি একটা লাশ পতাকা দিয়ে ঢাকা। ভাই হত্যার বিচার মিছিল নিয়ে সামনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দিকে যাচ্ছে। একটু আগে আমার সামনে গুলি খাওয়া লাশ টা আমার ভাই আমার সহপাঠী আর আমার সামনে দাড়ানো লোকটা সদ্য মারা যাওয়া আমার শহীদ ভাইয়ের বাপ। তখনই যেন মৃত্যুভয় কেটে গেলো রক্তের তেজেই টিয়ারগ্যাসের গন্ধ নাকে মুখে সহনীয় গেছে, মনে হলো এটা আন্দোলন ছিলো নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে উপহার বিনিময় সভা? রক্ত আর মৃত্যুর !


১৮ই জুলাই ঢাকা রামপুরা থেকে তোলা কিছু ছবি-

Scroll to Top